“আমি একদিন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হব।”—বহু বছর আগে নিজের বাবাকে ঠিক এই কথাটিই বলেছিলেন আজকের মেগাস্টার থালাপতি বিজয়। সেদিন হয়তো বাবার কাছে এটি ছিল এক কিশোরের অবাস্তব জেদ, কিন্তু আজ চেন্নাইয়ের স্টেডিয়ামে সেই জেদই ইতিহাস হয়ে ধরা দিল।
সিনেমা পর্দার সেই অজেয় নায়ক এখন বাস্তব তামিলনাড়ুর ভাগ্যবিধাতা। মাত্র ৫০০ টাকা থেকে শুরু হওয়া সেই কিশোরের ক্যারিয়ার আজ ২২০ কোটির উচ্চতা ছাড়িয়ে সরাসরি ঠাঁই নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর রাজসিংহাসনে।
১৯৭৪ সালে যখন বিজয়ের জন্ম, চারপাশ ছিল সিনেমার আলোয় ঝলমলে। বাবা নামী পরিচালক হলেও বিজয়ের শুরুটা রাজকীয় ছিল না। মাত্র ১০ বছর বয়সে বাবার ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে প্রথম কাজ করেন তিনি। হাতে পেয়েছিলেন মাত্র ৫০০ টাকা! তখন কি কেউ ভেবেছিল, এই ছোট্ট ছেলেটিই একদিন ভারতের সবচেয়ে দামী তারকা হবেন?
নব্বইয়ের দশকে কাজ শুরু করলেও ২০০৪ সালের ‘ঘিল্লি’ সিনেমাটি বিজয়কে রাতারাতি গণমানুষের হিরো বানিয়ে দেয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তার এক একটি সিনেমা বিশ্বজুড়ে ৫০০-৬০০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। অন্য তারকারা যখন পুরো ভারত জয়ের নেশায় হন্যে হয়ে ঘুরেছেন, বিজয় তখন কেবল নিজের ভাষার ছবি দিয়েই গোটা বিশ্ব জয় করেছেন।
বিজয় এখন সাফল্যের এমন চূড়ায় আছেন যে, তার শেষ সিনেমার জন্য তিনি পারিশ্রমিক নিয়েছেন প্রায় ২২০ কোটি টাকা! ঠিক এই সময়েই তিনি সবাইকে চমকে দিয়ে ঘোষণা করেন—তিনি আর সিনেমা করবেন না। যে বয়সে মানুষ আরও বেশি জৌলুস আর টাকা খোঁজে, সেই সময়ে নিজের ক্যারিয়ার তুড়িতে বিসর্জন দিয়ে তিনি নেমে এলেন রাজনীতির কণ্টকাকীর্ণ পথে।
নিজের দল ‘টিভিকে’ নিয়ে প্রথমবার নির্বাচনে নেমেই বাজিমাত করেছেন বিজয়। ১০৮টি আসনে জয় পেয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন পুরো ভারতকে। গত চার দিনের রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তা আর জোটের সমর্থন নিয়ে আজ ১২০ আসনের শক্তি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তিনি। বাবার কাছে করা সেই পুরনো ওয়াদা আজ অক্ষরে অক্ষরে সত্যি হলো।
আগামী ২২ জুন বিজয়ের জন্মদিনে মুক্তি পাবে তার জীবনের শেষ সিনেমা। প্রিয় নায়ককে বড় পর্দায় শেষবারের মতো দেখার বেদনায় ভক্তদের চোখে যেমন জল, তেমনি প্রিয় নেতাকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে দেখার আনন্দে রাজ্যজুড়ে চলছে মহোৎসব।