বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপ্রধান, অথচ তার ঠিকানা এখন মাটির নিচের এক অন্ধকার কুঠুরি! রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বইছে আলোচনার ঝড়। প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’ দাবি করেছে, প্রাণনাশের আশঙ্কা আর অভ্যন্তরীণ অভ্যুত্থানের ভয়ে পুতিন এখন মস্কো ছেড়ে দক্ষিণ রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের এক সুরক্ষিত বাঙ্কারে মাসের পর মাস অতিবাহিত করছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার ভেতরেই তৈরি হয়েছে চরম অস্থিরতা। ইউক্রেনীয় ড্রোনের ধারাবাহিক হামলা এবং একের পর এক সিনিয়র সেনা কর্মকর্তাদের রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনায় পুতিনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এখন তুঙ্গে। অবস্থা এতটাই বেগতিক যে, পুতিনের ব্যক্তিগত রাঁধুনি, আলোকচিত্রী এবং দেহরক্ষীদের মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেট ব্যবহার পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি তাদের বাড়িতেও বসানো হয়েছে কড়া নজরদারি ক্যামেরা!

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো পুতিনের যেসব ভিডিও প্রচার করছে, সেগুলো নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিন যে স্বাভাবিক আছেন—তা বোঝাতে পুরনো রেকর্ড করা ভিডিও বারবার চালানো হচ্ছে। এমনকি সম্ভাব্য ড্রোন হামলা ঠেকাতে প্রায়ই মস্কোর ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ, বাইরের দুনিয়ার সাথে প্রেসিডেন্টের যোগাযোগ এখন কার্যত বিচ্ছিন্ন।

পুতিনের এই রহস্যময় জনবিচ্ছিন্নতা নিয়ে খোদ রাশিয়ার ভেতরেই ক্ষোভ দানা বাঁধছে। ভিক্টোরিয়া বোনিয়া নামক এক জনপ্রিয় রুশ ব্লগারের একটি ভিডিও এখন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল, যেখানে তিনি সরাসরি বলছেন—মানুষ এখন প্রেসিডেন্টকে সম্মান নয়, বরং ভয় পাচ্ছে! শুধু পুতিনই নন, রাশিয়ার শীর্ষ ১০ জেনারেলের নিরাপত্তার দায়িত্বও এখন চলে গেছে গোয়েন্দা সংস্থা এফএসও-র হাতে।