লুইস এনরিকের জাদুদণ্ড যেন পিএসজির ডিএনএ-ই বদলে দিয়েছে। এক সময়কার ইগো-সর্বস্ব আর সুপারস্টারদের মেলা বসানো দলটি এখন ইউরোপের বুকে এক অদম্য ‘কমপ্লিট প্যাকেজ’। বায়ার্ন মিউনিখকে স্তব্ধ করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠে তারা জানান দিচ্ছে—এবার লক্ষ্য বুদাপেস্টের সিংহাসন।
সুপারস্টার নয়, একতাবদ্ধ এক ‘মেশিন’
মেসি, নেইমার কিংবা এমবাপ্পে—নামগুলো শুনলে মনে হতো কোনো নক্ষত্রপুঞ্জ, কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে তারা ছিল বিচ্ছিন্ন। সেই ইগো-ridden জমানা থেকে পিএসজিকে বের করে এনেছেন এনরিক। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, ইগো থাকবে ড্রেসিংরুমের বাইরে, নয়তো ক্লাবের বাইরে। ফলাফল? এক ঝাকুনিতেই বদলে গেছে প্যারিসের রূপ।
বায়ার্নকে স্তব্ধ করা সেই ৩ মিনিট!
মিউনিখের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় উত্তাল সমুদ্রের মতো গর্জন করছিল বায়ার্ন সমর্থকরা। লক্ষ্য ছিল ৫-৪ ব্যবধান ঘুচিয়ে দেওয়া। কিন্তু ম্যাচের ৩ মিনিটেই সেই গর্জন থামিয়ে দিলেন জর্জিয়ান জাদুকর কাভারাটস্কেলিয়া। তাঁর চোখধাঁধানো দৌড় আর ডেম্বেলের সেই বুলেট গতির ফিনিশ—বায়ার্ন বুঝে গিয়েছিল, এ লড়াই অসম।
রোলারকোস্টারের প্রাণভোমরা যখন মারকুইনোস
৩১ বছর বয়সেও মারকুইনোস যেন এক দুর্ভেদ্য দেয়াল। এনরিকের এই নতুন প্রজেক্টে তিনিই ছিলেন আসল গ্লু। উইলিয়ান পাচোকে সাথে নিয়ে হ্যারি কেইনদের পকেটে পুরে রেখেছিলেন পুরোটা সময়। শেষ মুহূর্তে কেইনের গোলটি সান্ত্বনা হয়েও টিকতে পারেনি; ততক্ষণে ড্যান্সিং মুডে চলে গেছেন এনরিক।
আর্তেতার ‘আর্সেনাল’ কি পারবে এই দেয়াল ভাঙতে?
২০ বছর পর ফাইনালে উঠে আর্সেনাল স্বপ্ন দেখছে ঠিকই, কিন্তু তাদের সামনে এখন ইউরোপের সেরা ট্যাকটিশিয়ান। যার হাতে ডেম্বেলে হয়ে উঠেছেন ব্যালন ডি’অর জেতার মতো লড়াকু সৈনিক। ভিটিনিয়া, ফ্যাবিয়ান রুইজ আর জোয়াও নেভেসের মিডফিল্ড যেন এক নিখুঁত ইঞ্জিন রুম, যা প্রতিপক্ষকে পিষে ফেলতে দ্বিধা করে না।