বলিউডের পর্দায় তিনি এখন এক জাদুকর। যেকোনো চরিত্রে অনায়াসে মিশে যাওয়া নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি আজ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। কিন্তু এই সাফল্যের সিংহাসনে বসার আগে তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে এক দীর্ঘ কণ্টকাকীর্ণ পথ। সম্প্রতি নিজের জীবনের সেই অজানা ও হাড়কাঁপানো সংগ্রামের গল্প নতুন করে সামনে আনলেন এই অভিনেতা।

অভিনয়ের নেশায় যখন মুম্বাইয়ে পা রেখেছিলেন, পকেটে তখন কানাকড়িও ছিল না। জীবন বাঁচাতে বেছে নিয়েছিলেন নিরাপত্তারক্ষীর (Security Guard) কাজ। ডিউটির ফাঁকে ফাঁকে চলত থিয়েটার আর নিজের অভিনয় দক্ষতাকে শাণিত করার লড়াই। কিন্তু গ্ল্যামারের এই শহরে তার মতো সাধারণ চেহারার একজনের জন্য সুযোগ পাওয়া ছিল আকাশকুসুম কল্পনা।

নওয়াজ জানান, প্রায় ১০ বছর নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্ভাগা মানুষ মনে করতেন তিনি। দিনের পর দিন অডিশন আর প্রত্যাখ্যান ছিল তার নিত্যসঙ্গী। অনেক সময় কাজ পাওয়ার খবর পরিবারকে জানানোর পর, শুটিং শুরুর আগেই বাদ দেওয়া হতো তাকে। একসময় নিজের যোগ্যতার ওপরই সন্দেহ তৈরি হয়েছিল নওয়াজের। তিনি ভাবতেন, “আমি যা শিখেছি, সেটাই কি ভুল?”

দারিদ্র্য যখন চরমে, তখন নওয়াজউদ্দিনের দিন কাটত শুধু বিস্কুট খেয়ে। সকাল, দুপুর কিংবা রাত—তিন বেলার আহার বলতে ছিল কেবল বিস্কুট। অভাব আর মানসিক চাপে অনেক সময় রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে কাঁদতেন তিনি। নওয়াজের ভাষায়, “অনেক সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতাম। শুধু আড়চোখে দেখতাম—কেউ আমাকে দেখে ফেলছে না তো?”

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনুরাগ কশ্যপের ‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর’ নওয়াজের ভাগ্য বদলে দেয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তবে আজ কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েও সেই বিস্কুটের স্বাদ ভুলতে পারেন না তিনি। আজও সেই বিস্কুট খেলে নওয়াজের মনে পড়ে যায় ফেলে আসা সেই ধূসর দিনগুলোর কথা। নওয়াজ বলেন, “আমি কোনো কিছুই ভুলে যাইনি; বরং নিজের পা মাটিতে রাখতে সব সময় পুরোনো দিনের কথা মনে করি।”

শূন্য থেকে শিখরে পৌঁছানোর এই গল্প কেবল একজন অভিনেতার নয়, বরং অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য উদাহরণ।