ঘটনাটি ফেনীর পরশুরামের। এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে জেল খাটতে হলো মসজিদের এক নিরপরাধ ইমামকে। হারালেন চাকরি, বিক্রি করতে হলো জমি, সইতে হলো সামাজিক গঞ্জনা। কিন্তু এক মাস পর ডিএনএ রিপোর্ট যখন সামনে এল, তখন বেরিয়ে এল এমন এক বিভীষিকা—যা শুনে শিউরে উঠেছে গোটা দেশ!

পরশুরামের সেই কিশোরী যখন অন্তঃসত্ত্বা হয়, তখন মা হনুফা খাতুন মামলা করেন স্থানীয় মক্তব শিক্ষক মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে। কিন্তু পুলিশের গভীর তদন্ত আর ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা যায়, ওই নবজাতকের বাবা মোজাফফর নন; বরং মেয়েটির আপন বড় ভাই মোরশেদ!

২০২৪ সালের শেষ দিকে শুরু হওয়া এই নাটকে ১ মাস ২ দিন জেল খাটতে হয় মোজাফফরকে। অথচ তিনি বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন। আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তাকে জোরপূর্বক পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিল গ্রামের মাতব্বররা। ডিএনএ রিপোর্টে যখন মোরশেদের সাথে ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া গেল, তখনই মোরশেদ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে নিজের পৈশাচিক পাপ স্বীকার করেন।

ইমামতি আর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি—দুটোই হারিয়েছেন মোজাফফর আহমদ। মামলার খরচ জোগাতে বিক্রি করেছেন শেষ সম্বল ৫ শতক জমিও। আজ তিনি মুক্ত, আদালত তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন; কিন্তু সামাজিকভাবে তিনি যে অপদস্থ হয়েছেন, সেই ক্ষতিপূরণ কে দেবে?

মোজাফফর আহমদ বলেন, “অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। কিন্তু আমার এই সামাজিক মর্যাদাহানি আর অর্থনৈতিক ক্ষতির দায়ভার কার?” ওলামা মাশায়েখ পরিষদসহ স্থানীয়রা এখন দাবি তুলছেন, শুধু মামলা থেকে মুক্তি নয়, এই মজলুম ইমামকে ক্ষতিপূরণ ও আইনি সহযোগিতা দেওয়া এখন সময়ের দাবি।